কলেজ পরিচিতি

‘পুত্র সে হাতের লাঠি, বংশের চেরাগ
কন্যা সে মাথার বোঝা, কুলে দেয় দাগ।’

ময়মনসিংহ গীতিকায় এ পয়ার ছন্দে লিখা কবিতায় উনিশ শতকের বাঙালি নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির একটি চমৎকার চিত্র ফুটে উঠে। ছেলে মেয়ের বৈষম্যের বিষয়টি সবাই জানতে এবং বুঝতো এবং সর্বোপরি পুত্রকে কন্যার চেয়ে বেশি মর্যাদা দিত। যার যত বেশি পুত্র সন্তান তার সমাজে তত বেশি দাপট এবং তার যদি অর্থবিত্ত ও পর্যাপ্ত থাকত তাহলে সেই হতাে সর্দার তথা এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। এমনি এক প্রেক্ষাপটে বৃহত্তর সিলেট জেলা শিক্ষা-দীক্ষায় অনেক পিছিয়ে থাকে। এর মধ্যে আবার হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলা নীচু জলাভূমি ও কিছুটা হাওরবেষ্টিত বলে দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল এর বৈশিষ্ট্য। ফলে এতদাঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল খুবই কম এবং আশির দশকের আগে আজমিরী ও লাখাই উপজেলায় কোন কলেজই ছিল না। অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত ও ধর্মীয় গােড়ামিতে আচ্ছন্ন ছিল বলে মেয়েদের ঘর হতে বের হতে দিত না। কন্যা সন্তান তাদের কাছে বােঝা মনে হত এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়ে দিয়ে ভরনপােষণের দায়িত্ব থেকে রেহাই পেতে চাইত। কন্যা বিবাহ এবং মেয়েদের পশ্চাৎপদতার এটিও একটি বড় কারণ ছিল। ছেলেমেয়ের মেলামেশা অত্যন্ত অমার্জনীয় অপরাধ বিবেচিত হত বলে যার ঘরে বিবাহযােগ্য কন্যা ছিল সে যত তাড়াতাড়ি কন্যা বিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত এবং প্রেম ভালবাসার আশংকা থেকে কন্যাকে বাঁচাতে চাইত। হিন্দু জনগােষ্ঠী তুলনামূলকভাবে মুসলমানদের চেয়ে বেশি বাস্তববাদী এবং শিক্ষার প্রতি দরদী ছিল মনে হয়। এ অবস্থা স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বেশি দেখা যেত। তারপর আস্তে আস্তে মানুষের মনােভাব পরিবর্তিত হতে থাকে। নারীদেরও যে শিক্ষার দরকার এবং তারাও যে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে তা বুঝতে সক্ষম হয়। এ ক্ষেত্রে পুরুষ শিক্ষার চেয়ে নারীর শিক্ষার প্রয়ােজন আরও বেশি। কারণ একজন পুরুষ শিক্ষিত হলে শুধু সে-ই শিক্ষিত হয় কিন্তু একজন নারী শিক্ষিত হলে গােটা পরিবার শিক্ষিত হয়। এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে নারীরা যুগের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে কুপমণ্ডুকতার দেয়াল ভেঙ্গে বের হতে শুরু করে তারা পড়তে চায়। কিন্তু অপর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নারীদের জন্য মুসলমান জনগােষ্ঠীর মনে এ ধারনা প্রবল হয়ে উঠে যে, হবিগঞ্জে আরও একটি কলেজ দরকার এবং তা মেয়েদের জন্য হলে আরও ভাল হয়। এ ধারনা হতেই তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক আঃ ছাত্তার কতিপয় বিদ্যুৎসাহী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৮১ সনে মহিলা কলেজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং তারপর বেশ ক’বছর চলে যায় এবং ১৯৮৫ সালে জেলা প্রশাসক শাহ মােহাম্মদ নাজমুল আলম সাহেবের সাথে পরামর্শক্রমে হবিগঞ্জের কতিপয় বিশিষ্ট মুরুব্বি, আধুনিক চিন্তা-ভাবনায় বিশ্বাসী ও শিক্ষাদরদী জনাব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, আবু লায়েছ মুবীন চৌ., এডভােকেট আ. মতিন খান, এডভােকেট আফছর উদ্দীন, এডভােকেট আঃ হক, শামছুল হােসেন উমদা মিয়া, মর্তুজা মিয়া এবং আরও কতিপয় ব্যক্তিবর্গের সক্রিয় সহযােগিতায় কলেজটি বর্তমান পৌর পাঠাগারের যা পুরাতন খােয়াই নদীর পাড়ে অবস্থিত সেখানে স্থাপিত হয়। এর আগে হবিগঞ্জের অত্যন্ত নামকরা শিক্ষিত সজ্জন কিংবদন্তীতুল্য জ্ঞান, প্রতিভা ও স্মৃতিশক্তির অধিকারি জনাব মােহাম্মদ আলী সাহেবকে হবিগঞ্জের বিশিষ্টজনেরা কুমিল্লা থেকে নিয়ে আসেন। ১লা নভেম্বর ১৯৮৫ সনে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ইতিপূর্বে সরকারি নিয়ম মেনে বৃন্দাবন কলেজের অধ্যক্ষ মর্তুজা মিয়া, এডভােকেট চৌধুরী আব্দুল হাই শহীদ চৌধুরী, মােঃ আব্দুল হক, আফছর আহমদ, আতিক উল্লা, আব্দুল বারী প্রভাষক প্রভাষিকা নিয়ােগের সভা করেন। জনাব শাহ মােহাম্মদ নাজমুল আলমের সভাপতিত্বে উক্ত নিয়ােগ কমিটি জনাব মােহাম্মদ আলীকে অধ্যক্ষ, গােকুল চন্দ্র দাশকে বাংলা, মােঃ গােলাম কিবরিয়াকে, অর্থনীতি, মােঃ শামসুল হককে সমাজকল্যান, জিনাত জাহা শওকত আরা চৌধুরীকে পৌরনীতি, দেলােয়ারা খাতুনকে ইসলামের ইতিহাস এবং হামিদা আখতারকে যুক্তিবিদ্যায় সর্বসম্মতিক্রমে নিয়ােগ দান করেন।

১৯৮৫ সনের ১লা নভেম্বর মহিলা কলেজ চালু হয় কিন্তু শিক্ষাবর্ষ জুলাই মাসে শুরু হয় বিধায় যাদের জন্য কলেজ তাদের পেতে সংকট দেখা দেয়। কিন্তু হাল ছাড়লে তাে চলবে না। সবাই মহা-উৎসাহী, এবারই শুরু হতে হবে। ইতােমধ্যে কলেজে প্রায় সবাই ভর্তি হয়ে গেছে বা অন্যত্রকিছু সংখ্যক পড়া ছেড়ে দিয়েছে, বিয়ের পীড়িতে বসে গেছে কেউবা। অনেক কষ্টে ১৮ জন ছাত্রী পাওয়া গেল- শিক্ষক ৬ জন, আঃ মুকীত সাব অফিস সহকারি, আঃ মতিন পিয়ন ছাত্রী ১০-১২ জন ক্লাসে আসে। যেন ঘরােয়া পারিবারিক পরিবেশ। বাসাবাড়ি মনে করে মুরগীওয়ালা মুরগী বিক্রি করতে আসে, ফকির আসে ভিক্ষা নিতে। একবারতাে এক টিক্কা বিক্রেতা টিক্কা বিক্রি করতে আসলে হাসির রােল উঠে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে অধ্যক্ষ সাহেবের মজার মজার রসালাে কৌতুক, জ্ঞানগর্ভ কথা আমাদের যারপর নাই আনন্দ দেয়- মনে হতাে এর চেয়ে জীবনে আনন্দ আর কী হতে পারে। ৮০০ টাকা বেতনের চাকুরী অথচ সবাই মাস্টার্স ডিগ্রিধারী তাও রেগুলার পাওয়া যেত না। তবুও মনে হতাে আমরা সুখে আছি, যেন একটি একান্ত ছােট সুখী পরিবার। ১৮জন ছাত্রী খাতায়-কলমে থাকলেও বৃন্দাবন কলেজের মাধ্যমে মাত্র ০৮ জন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩ জন ২য় বিভাগে একজন ৩য় বিভাগে পাশ করে। সুফিয়া খানম এ কলেজের ১নং রােলের ছাত্রী, ২য় বিভাগে এখান থেকে এইচএসসি পাশ করে বৃন্দাবনে বিএ পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রিলিমিনারিতে অর্থনীতি নিয়ে ভর্তি হয় এবং শেষে ২য় শ্রেণি পেয়ে মাস্টার্স পাশ করে কি যেন এক এনজিওতে চাকুরী করে এবং জামাইর চাকুরী সূত্রে ঢাকাতেই স্থায়ীভাবে বাস করে। আর একটি মেয়ে হালিমা খাতুন, আর একজন উমেদনগরের মিজানুর বেগম ঢাকায় থাকে। আর যারা তারা শুধু নামেই ছিল।

ইংরেজির কোন শিক্ষক পাওয়া যায় নাই- জনৈক ম্যাজিস্ট্রেট সাবের সহধর্মিনী ফেন্সি বেগম, অরবিন্দু স্যার এবং পরে দেবেন্দ্র চন্দ্র দাশ, ইংরেজি পড়ানাের দায়িত্ব নেন। শ্রেণি খােলার পারমিশন মিললেও ছাত্রী সংখ্যা মাত্র ১৮ জন। জায়গা নেই তাই কতিপয় শর্ত জুড়ে দেয় শিক্ষা বাের্ড কর্তৃপক্ষ অনুমােদনের জন্য। পরবর্তী বৎসর সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ছাত্রী সংখ্যা আশানুরূপ ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ১২৫ দাঁড়ায়। কলেজ আলাের মুখ দেখে। রাজনগরে মিলন বাবুর ছেড়ে যাওয়া জায়গায় হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহযােগিতায় ১৯৮৭ সালের জানুয়ারিতে চারতলা ফাউন্ডেশনে একতলা ভবন স্থাপিত হয়। সংগীতজ্ঞ মিলনবাবু খুন হয় এবং তার রেখে যাওয়া জায়গা জমি একটি মহৎ কাজে লাগে- তার আত্মার সদগতি তথা আত্মার স্বর্গপ্রাপ্তি আমাদের সবার কামনা। হবিগঞ্জ মহিলা কলেজে জায়গার পরিমাণ খুবই কম কিন্তু এর একটি সুবিধার দিক হলাে পাশ্ববর্তী মেয়েদের স্কুল একই কম্পাউন্ডে অবস্থিত । একটি সুন্দর দৃষ্টি নন্দন পুকুর আছে। বাইরের লােকজন পুরােটাই মহিলা কলেজ বলে ধরে নেয়। শহীদ মিনার নতুন একাডেমিক ভবন এবং আরও কতিপয় নতুন স্থাপনা কলেজটিকে একটি নান্দনিক সুন্দর পরিচ্ছন্ন প্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়েছে। এজন্য বর্তমান ও পূর্বের সব প্রতিষ্ঠান প্রধানেরই কমবেশী অবদান রয়েছে। ৩৫ বছর এই কলেজে চাকুরি করেছি দীর্ঘসময় ১৯৮৫-২০১৫ মাঝখানের দুই মাস সুনামগঞ্জ মহিলা কলেজের চাকুরীটুকু বাদ দিলে প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক আমরা কতিপয় সারাজীবন এখানেই কাটিয়েছি। এর সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক আজীবন । ১৯৮৯-৯০ সালে এ কলেজে ডিগ্রি ক্লাস শুরু হয়- ইমুভূষন দাশ রায়, মুর্শেদা বর চৌধুরী নাজনীন, রকিবুন্নাহার, জাকিরুল হক, ফরহানা চৌধুরী,আম্বিয়া খাতুন, তাহমিনা, রেহানা আক্তার মারুফা সবাই কাছাকছি সময় বা এক সাথে যােগ দিয়ে মহিলা কলেজের পরিবারে যােগদান করেন। পরিবার বড় হলেও আমরা অত্যন্ত মিলে মিশে শ্রদ্ধা ভালবাসা, স্নেহ মমতার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলাম। আমার তাে মনে হয় মহিলা কলেজের লেখাপড়া, ছাত্রী শিক্ষকের সম্প্রীতি অন্য অনেক কলেজের চেয়ে ভাল ছিল। ইতিমধ্যে আরও কতিপয় শিক্ষক এসে যােগ দেন যেমন ইসলামের শিক্ষায় আব্দুর নুর খান, আব্দুল জলিল। এক পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগ খােলা হয় আবু তাহের, আলপনা কর্মকার, এ কে এম হাবিবুর রহমান, সৈয়দ মােজতাবা সােমেল যােগ দিয়ে মহিলা কলেজের শিক্ষক তালিকা আরাে দীর্ঘ হয়। ৫/৪/১৯৯৭ কলেজটি সরকারি হয়। নতুন নতুন শিক্ষক, অধ্যক্ষ আসেন। এই মুহুর্তে খুব মনে পড়ছে শওকত হােসেন রিপন, খলিলুর রহমান রাজন মিয়া, জহিরুল হক তারা সবাই বিসিএস পাশ করে এখানে আসেন এবং আমাকে সবাই অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মান দিতেন বলে নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে হতাে। কলেজের অভাব এখনও বড় বেশি অনুভূত হয়, এর মধ্যে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি রাজনগরের আঃ রউফ ভাইদের কথা। নামমাত্র মূল্যে তারা কলেজের জমি না দিলে হােস্টেল নির্মাণ সম্ভব হত না। এখানে অনেক অধ্যক্ষ প্রশাসনের শীর্ষে থেকে নিজ নিজ অবদান রেখে গেছেন। বেসরকারি আমলে অধ্যক্ষ মােহাম্মদ আলী এক নামে সবার কাছে গুণী ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত ছিলেন- শুধু তিনি এখানে আছেন তাই মেয়েকে ভর্তি করতো কোন কোন অভিবাবক। তারপর টাঙ্গাইলের আব্দুল খালেক- কিছুটা বিতর্কিত এ অধ্যক্ষ ও কম করেন নাই, আসেন আঃ রশীদ, মুক্তিযােদ্ধা মােমিনুর রহমান, জাহান আরা বক্তৃতায় পটু, সংস্কৃতিমনা এবং সত্যেন্দ্রশীল। আর যাদের নাম মনে আসছে না তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। বর্তমানে অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রফেসর মােঃ নজমুল হক নতুন নতুন সৃষ্টিশীল বিষয় যােগ করে সবার নজর কাড়ছেন, প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। বিশেষ করে নতুন এগারােটি পদ সৃষ্টি এবং একাদশ শ্রেণিতে ব্যবসায় শিক্ষা শাখা খােলার ক্ষেত্রে উনার অবদান ও ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রাক্তন ছাত্রী শিক্ষক গ্রাউন্ড রি-ইউনিয়ন এবং বর্তমান ম্যাগাজীন ওনার অবদান। এসবের নিশ্চয়ই প্রয়ােজন আছে। শুধু পড়ালেখাটাই বড় কথা নয়- শিক্ষার বড় উদ্দেশ্য জীবনের সর্বক্ষেত্রে পারদর্শিতা অর্জন। নিজে ভাল থাকা এবং অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে তাকে আরও ভাল হওয়ার সুযােগ দেয়া। ছাত্রীদের বলব, মহিলা কলেজ তােমার নিজের কলেজ একে যতবেশী ভালবাসবে তুমি তত বেশি ভাল থাকবে পড়াশােনার সাথে সাথে মানবিক গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে আদর্শ মানুষ হতে হবে। দুনিয়াতে আমরা কয়দিনই বা বাঁচব। কিন্তু আমাদের কীর্তিগুলি বেঁচে থাকবে। ভাল ছাত্রী হওয়া ভাল, আরও ভাল, ভাল মানুষ হওয়া। মহিলা কলেজ আমাকে আজীবন বেঁধে রেখেছে। সিলেট পাইলট স্কুল, ঢাকা কলেজ, ঢাকা ভার্সিটির অর্থনীতি নিয়ে পড়ার কারণে আমার অনেক অনেক বন্ধু সচিব এবং আর অনেক উচু পর্যায়ে থাকায় তাদের সাথে ন্যূনতম যােগাযােগ রাখলে ও আমি পদবী অর্থ-বিত্তে অনেক উপরে উঠতে পারতাম। কিন্তু জীবনের সত্যিকার সুখ হয়ত না-ও পেতে পারতাম। কারণ মানুষের ভালবাসা পাওয়া, ভালবাসা দেওয়া আর সৎ ভাবে জীবন যাপন করাই প্রকৃত সুখ। আর মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সন্তান-সন্তানাদি যদি যােগ্য সুসন্তান এবং মা বাবার প্রিয় হয় তার চেয়ে সুখ আর কোথাও কি আছে? কিছু অপূর্ণতা আর কিছু না পাওয়ার যন্ত্রণা সেই সাথে নিজে দীর্ঘ না হয়েও অন্যের দায়ভার নিজের ঘাড়ে চেপে নিজেকে সুখী ভাবি-খুব সুন্দর কথা, অবস্থা যার যে রূপ তাতে তুষ্ট থাকেন যিনি এ ভুবন মাঝে, সুখী কেবল তিনি । কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা যতই নিজেকে তুষ্ট ভেবে সুখি ভাবি তবুও কখনাে মনে হয় পদ পেলে বুঝি ভাল ছিল। অনেক ঐশ্বর্য আর শান শওকত। এটা মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্য। সময় থেমে নেই। সময়কে কাজে লাগানাে এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে উচ্চাশা নিয়ে স্বীয় কর্তব্য সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে নিশ্চয়ই অভীষ্ঠ লক্ষ্যে পৌছাতে পারবে। অন্তর্মুখী না হয়ে বহির্মুখী হয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বাধীন এ দেশকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সত্যিকারে সােনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে সােনার মানুষ হবাে এ হােক আমাদের সবার কামনা।